এতো যত্ন, সময় মতো খাবার, পুষ্টি সবই করা হচ্ছে কিন্তু গাভী বীজ রাখছে না। বহু খামারির এইটা একটা খুবই সাধারণ অভিযোগ। তারা বুঝতে পারেন না এমন একটা তরতাজা গাভী কেন গাভীন হচ্ছে না।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো, বেশিরভাগ খামারি গাভীর ঋতুচক্র (মেয়েদের মাসিক যেমন) সম্পর্কে জানেন না। ফলে তারা সময়মতো গাভীকে বীজ দিতে ব্যর্থ হন। আর এই কারণে গাভী কনসিভ করে না।
অন্যান্য কারণ যে থাকতে পারে না, সেটা বলছি না। আরও নানা কারণেই গাভী কনসিভ করে না। তবে যদি খামারিদের গাভীর ঋতুচক্র সম্পর্কে ধারণা থাকে তাহলে এই ধরনের সমস্যা অনেকখানি এড়ানো যায়।
গরুর মাসিক:
গরুর মাসিক চক্র, যা ইস্ট্রাস (Estrous) চক্র নামে পরিচিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া যা প্রজননের জন্য অপরিহার্য। এখানে কিছু মূল তথ্য বাংলাতে দেওয়া হলো:
ইস্ট্রাস চক্র কী?
* ইস্ট্রাস চক্র হলো গরুর প্রজনন চক্র, যার মাধ্যমে গরু গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয়।
* এটি হরমোনের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
চক্রের সময়কাল:
* গরুর ইস্ট্রাস চক্র সাধারণত ২১ দিন স্থায়ী হয়।
* এই সময় কালে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিম্বানু পরিপক্ক হয় এবং প্রজননের জন্য প্রস্তুত হয়।
ইস্ট্রাসের লক্ষণ:
* ইস্ট্রাসের সময়, গরু কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ প্রদর্শন করে, যেমন:
* অন্য গরুর উপর চড়ার চেষ্টা করা।
* অন্য গরুর গন্ধ শুঁকা।
* যোনি থেকে স্বচ্ছ শ্লেষ্মা নিঃসরণ হওয়া।
* এই লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায় গরু প্রজননের জন্য প্রস্তুত।
গরুর ইস্ট্রাস চক্র বোঝা খামারিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সঠিক সময়ে গরুকে গর্ভধারণ করাতে সাহায্য করে, যা দুধ এবং মাংস উৎপাদন বাড়াতে পারে। কৃত্রিম প্রজননের জন্য এই চক্র বোঝা খুবই দরকার। গরুর প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও ইস্ট্রাস চক্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
গাভীর ঋতুচক্রের চারটি ধাপ:
প্রথমটি: Pro Estrous বা প্রস্তুতি পর্ব
দ্বিতীয়টি: Estrous বা উত্তেজনা পর্ব
তৃতীয়টি: Meta Estrous কাম উত্তেজনা পর্ব
চতুর্থটি: Di-Estrus নিষ্ক্রিয় পর্ব
এই ধাপগুলো নিয়ে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. প্রস্তুতিপর্ব (Pro Estrous:
গাভী হিটে আসার তিন দিন আগে থেকে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেবে। ঝিমানি ভাব থাকবে।গাভীর যোনি মুখ দিয়ে স্বচ্ছ পাতলা তরল বা ঝিল্লির মতো বের হবে।
২. যৌন উত্তেজনা পর্ব (Estrous):
এই পর্ব এক দিন স্থায়ী থাকে। আর আমাদের খামারি ভাইয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই পর্বেই বীজ দিয়ে থাকেন, যার ফলে বীজ আটকায় না। এই পর্বে বীজ দিলে কনসিভ না করার হার ৯৮ শতাংশ।
লক্ষণ
* গাভি ঘন ঘন প্রসাব করবে
* অন্য গাভীর উপর লাফিয়ে উঠবে
*অন্য গাভীর যৌনাঙ্গ শুকতে থাকবে।
* দুধ উৎপাদন কমে যাবে
৩. কাম উত্তেজনা পর্ব (Meta Estrous):
এটি খামারি ভাইদের জন্য সুবর্ণ সময়। এই পর্বের স্থায়িত্ব ১ থেকে ২ দিন।এই পর্বেই বীজ দেওয়ার সঠিক সময়। এই সময় বীজ দিলে কনসিভ করার হার ৯৯ শতাংশ।
এই পর্বের প্রধান লক্ষণ:
গাভীর যোনি পথ দিয়ে অনেক সময় রক্ত মিশ্রিত ঝিল্লি বের হয়।
মনে রাখবেন, গাভীর Estrous পর্ব দেখা দেওয়ার ১২ ঘণ্টা পর বীজ দেবেন। অর্থাৎ সকালে হিট এলে বিকেলে বীজ দেবেন।
যদি গাভীটি আগে হিট মিস করে থাকে, তাহলে সেই গাভীকে অবশ্যই পরের দিন সকালে আবার বীজ দেবেন।
৪. শেষ পর্ব (Diestrous):
এটি থাকে ১৫ দিন। যদি আপনার গাভীকে বীজ না দেন তাহলে গাভীর জরায়ু থেকে বের হওয়া ডিম্বাণু মারা যাবে এবং গাভীর সমস্ত জননঅঙ্গ স্বাভাবিক হবে। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে আবার সাইকেল বা চক্র শুরু হবে।
আরও পড়ুন:
গরুর কিছু সাধারণ রোগ ও সহজ সমাধান
0 Comments