গবাদিপশুর ফুট রট রোগ, যা ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস নামেও পরিচিত, একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ। এই রোগে গবাদিপশুর ক্ষুরের নরম টিস্যুতে পচন ধরে। এই রোগটি গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সেই সঙ্গে এই রোগের প্রাদুর্ভাবে খামারিরাও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নিচে এই রোগের আরও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু:
প্রধানত Fusobacterium necrophorum নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের জন্য দায়ী।
এছাড়াও Bacteroides melaninogenicus ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াও এই রোগের কারণ হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহ:
ভেজা এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ: কাদা, পানি এবং গোবরের সংস্পর্শে থাকা ক্ষুরের ত্বককে নরম করে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
ক্ষত: ধারালো বস্তু বা পাথরের কারণে ক্ষুরে আঘাত লাগলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর গোয়ালঘর: অপরিষ্কার এবং স্যাঁতসেঁতে গোয়ালঘরে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন পশুরা এই রোগের জন্য বেশি সংবেদনশীল।
রোগের লক্ষণসমূহ:
খোঁড়ানো: আক্রান্ত পশু হাঁটতে অসুবিধা বোধ করে এবং খোঁড়াতে শুরু করে।
ক্ষুরের চারপাশে ফোলা এবং লালচে ভাব।
ক্ষুরের মধ্যবর্তী স্থানে ক্ষত এবং পুঁজ জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
ক্ষুধামন্দা: আক্রান্ত পশু খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে।
দুধ উৎপাদন হ্রাস: দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
গুরুতর ক্ষেত্রে ক্ষুর খসে যাওয়া।
রোগ নির্ণয় পদ্ধতি:
শারীরিক পরীক্ষা: ক্ষুরের লক্ষণ এবং ফোলা দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়।
ব্যাকটেরিয়াল সংস্কৃতি: ক্ষতের নমুনা সংগ্রহ করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা।
চিকিৎসা পদ্ধতি:
অ্যান্টিবায়োটিক: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিরাময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
ক্ষত পরিষ্কার: ক্ষতস্থান জীবাণুনাশক দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় চিকিৎসা: ক্ষতস্থানে অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক মলম প্রয়োগ করা হয়।
কপার সালফেট ফুটবাথ।
গুরুতর ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসা (অপারেশন) প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
গোয়ালঘর পরিষ্কার রাখা: গোয়ালঘর নিয়মিত পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে।
ক্ষুর পরিষ্কার রাখা: নিয়মিত ক্ষুর পরিষ্কার করা এবং অতিরিক্ত বৃদ্ধি রোধ করা উচিত।
ফুটবাথ: পশুর ক্ষুর নিয়মিত জীবাণুনাশক দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা উচিত।
খাদ্যে প্রয়োজনীয় মিনারেল সরবরাহ।
পশুকে কাদা বা ভেজা স্থানে রাখা থেকে বিরত রাখুন।
ভ্যাকসিন প্রয়োগ।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
দুধ উৎপাদন হ্রাস: দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খামারিরা অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
ওজন হ্রাস: মাংস উৎপাদনকারী পশুদের ওজন কমে যায়।
চিকিৎসা খরচ: রোগের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়।
পশু স্থায়ীভাবে খুঁড়া হয়ে গেলে তার কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং খামারের উৎপাদন হ্রাস পায়।
0 Comments