সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

মাত্র ১ শতক জমিতে সার-কীটনাশক ছাড়া সারাবছর সবজি চাষ

grow organic vegetables in small backyard

মাত্র এক শতক জমিতে সবজি চাষ করলে সারাবছর আর আপনার সবজি কেনা লাগবে না। বিশ্বাস হচ্ছে না তো‍! এইটা কিন্তু খুবই সম্ভব। নিয়ম মেনে একটা বছর চেষ্টা করেই দেখেন না! 

এইটা এমন একটা মডেল যেখানে আপনি সারা বছর আপনার পছন্দনীয় প্রায় সব সবজি চাষ করতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, সবজিগুলো হবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ। অর্থাৎ অর্গানিক সবজি খাবে আপনার পরিবারের সদস্যরা।

যে নিয়ম এখানে বর্ণনা করছি, সেটি মেনে চাষ করলে আপনাকে কোনো রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। একবার বেড তৈরি করে নিলে আজীবন শাকসবজি খেতে পারবেন।

সারা বছরের সবজিগুলোকে আমরা দুই সিজন বা মৌসুমে ভাগ করি: গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন। কেউ বলতে পারেন: খরিপ ও রবি।

১. স্থান নির্বাচন:

* এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে।

* জলের সহজলভ্যতা আছে এমন জায়গা নির্বাচন করুন।

* মাটি যেন উর্বর এবং ভালো নিষ্কাশনযোগ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

২. মাটি প্রস্তুতি:

* মাটিকে ভালো করে কুপিয়ে আগাছা পরিষ্কার করুন।

* জৈব সার (যেমন: কম্পোস্ট, গোবর সার) মিশিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়ান।

* মাটির pH মাত্রা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চুন বা অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করুন।

৩. সবজি নির্বাচন:

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযুক্ত কিছু সবজি হলো:

শীতকালীন সবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মুলা, গাজর, পালং শাক, ধনিয়া পাতা, মটরশুঁটি।

গ্রীষ্মকালীন সবজি: বেগুন, ঢেঁড়স, শসা, লাউ, কুমড়া, করলা, পুঁইশাক, বরবটি।

বারোমাসি সবজি: পেঁপে, কাঁচামরিচ, লেবু, কলমি শাক।

৪. বীজ বা চারা রোপণ:

* ভালো মানের বীজ বা চারা সংগ্রহ করুন।

* সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে বীজ বা চারা রোপণ করুন।

* চারা রোপণের পর হালকা সেচ দিন।

৫. জৈব পরিচর্যা:

* নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন।

* প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিন।

* জৈব কীটনাশক (যেমন: নিম তেল, পেঁয়াজ রস) ব্যবহার করে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করুন।

* জৈব সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বজায় রাখুন।

* বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।

৬. মালচিং (Mulching):

* মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আগাছা কমাতে খড়, শুকনো পাতা বা ঘাস দিয়ে মাটি ঢেকে দিন।

৭. কিছু অতিরিক্ত টিপস:

* আপনার স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিতে পারেন।

* বিভিন্ন প্রকার সবজি একসাথে চাষ করলে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।

* সবজির অবশিষ্টাংশ দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করে পুনরায় ব্যবহার করুন।

* বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন।

উদাহরণস্বরূপ, একটি ছোট বাগানের পরিকল্পনা:

* একটি ছোট অংশে টমেটো, বেগুন এবং মরিচ রোপণ করুন।

* অন্য অংশে পালং শাক, ধনিয়া পাতা এবং মুলা চাষ করুন।

* বেড়ার ধারে লাউ বা কুমড়া গাছ লাগান।

* পেঁপে বা লেবু গাছের জন্য একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারণ করুন।

এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার বাড়ির পেছনে একটি সুন্দর এবং ফলপ্রসূ জৈব সবজির বাগান তৈরি করতে পারবেন।

১ শতাংশের মডেল সবজি বাগান:

grow vegetables in small land

এখানে যে মডেলটি বর্ণনা করা হচ্ছে সেটি মাত্র ২৪ ফুট বাই ২৪ ফুট। সবজির বেড থাকবে ৫টি (মাঝখানে)। তবে দুই মাথায় মাচায় হয় এমন সবজির জন্য আরো দুটি বেড হবে, অর্থাৎ আপনার মোট বেড হবে ৭টি।

মাঝখানের ৫টি বেড হবে ১৬ ফুট করে লম্বা আর ২ ফুট ৪ ইঞ্চি চওড়া। বেডগুলো হবে উত্তর-দক্ষিণ মুখি। এই দিকটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মুখে বেড না করলে যথেষ্ট সূর্যের আলোর অভাবের কিছু শাকসবজির ফলন ভালো পাবেন না।

বেডের মাঝখানে মাঝখানে নালাগুলো হবে ১০ ইঞ্চি চওড়া। দুই মাথায় মাচাগুলো হবে ৩ ফুট চওড়া আর ২৪ ফুট লম্বা।

এবার দেখে নিন কী কী সবজি লাগাবেন:

গ্রীষ্মকালীন সবজি:

পূর্ব দিকের মাচায় একদিক থেকে ঝিঙ্গা, কাকরোল, পটল, বরবটি,

মাঝখানের ৫টি বেডের (পূর্ব থেকে)

প্রথম বেডে টমেটো এবং বেগুন

দ্বিতীয় বেডে মিষ্টি আলু ও কচু

তৃতীয় বেডে কাঁচা মরিচ 

চতুর্থ বেডে ডাটা শাক, পাট শাক

পঞ্চম বেডে ঢেঁড়স (ভেন্ডি)

পশ্চিম দিকের মাচায় একদিক থেকে মিষ্টি কুমড়া, শসা। 

উত্তর ও দক্ষিণ মাথায় ৩টি করে মোট ৬টি পেঁপে গাছ। 

শীতকালীন সবজি:

পূর্ব দিকের মাচায় একদিকে লাউ, আরেক দিকে খিরা বা শসা।

মাঝখানের বেডগুলোর (পূর্ব দিক থেকে):

প্রথম বেডে টেমেটো ও বেগুন,

দ্বিতীয় বেডে মূলা ও গাজর,

তৃতীয় বেডে কাঁচা মরিচ,

চতুর্থ বেডে লালশাক ও পালং শাক

পঞ্চম বেডে ফুলকপি ও বাঁধাকপি

পশ্চিম দিকের মাচায় একদিকে শিম, অন্যদিকে উস্তে বা করলা। পেঁপে গাছগুলোর গোড়ায় পুদিনা, ধনিয়া।

আরও পড়ুন:

বাড়ির আঙ্গিনায় সারা বছর সবজি চাষ Read more...

জমিতে সার কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ৩৪ ধরনের ফসল চাষ! Read more...

৯ ধরনের জৈব কীটনাশক: তৈরি ও ব্যবহার Read more...

ঘরেই তৈরি করুন গবাদিপশুর কৃমিনাশক ও লিভার টনিক Read more...

Post a Comment

0 Comments