গরমকালে অনেক খামারের মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা যায়। বাংলাদেশের মতো গরমের দেশে এই সমস্যা খুবই সাধারণ। গরমের সময় মুরগি তাদের শরীরের তাপ বের করতে পারে না, ফলে শ্বাসকষ্ট হয় এবং হৃদস্পন্দন (হার্টবিট) বেড়ে যায়। খামার ও মুরগির শরীর শীতল করার ব্যবস্থা না করলে এই সমস্যা এত বেড়ে যায় যে, মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা যায়।
যা যা মনে রাখতে হবে
- এই সময়ে মুরগির খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। তাই দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে তাদের খাবার না দিয়ে শুধু পানি খাওয়ানো ভালো। দিনের অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা সময়, যেমন ভোর ও সন্ধ্যার পরে, তাদের খাবার দিতে হবে।
- খামারে এই সময় যে খাবার দেওয়া হয়, তার পুষ্টিগুণ সঠিক এবং বেশি হওয়া দরকার। যেমন, সাধারণভাবে ১০০ গ্রাম খাবারের যে পুষ্টিগুণ থাকে, তা যেন ৯০ গ্রাম খাবারের মধ্যেই পাওয়া যায়।
- খাবারে প্রোটিনের ক্ষেত্রে খুব উচ্চমানের প্রোটিন ব্যবহার করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, এতে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, মিথিওনিন ও লাইসিনের ঘাটতি আছে কিনা। যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে বাড়তি অ্যামাইনো এসিড মেশাতে হবে।
- খামারে রেডি ফিড ব্যবহার করলে, তাতে অ্যামাইনো এসিড মেশানোর সুযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে তরল মিথিওনিন পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে এক থেকে দুই মিলিলিটার মেশাতে হবে। এছাড়াও অন্যান্য অ্যামাইনো এসিডের ঘাটতি পূরণের জন্য অ্যামাইনো লাইটস এবং অ্যামাইনো এসিড ও শক্তি সরবরাহের জন্য অ্যামাইনো-১৮ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
- গরমের সময় রক্ত চলাচল দ্রুত হওয়ার জন্য হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে, যা হিটস্ট্রোকের কারণ। এই রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে, এসপিরিন ও ভিটামিন-সি যুক্ত মিশ্রণ, যেমন এন্টি স্ট্রেস প্রিমিক্স, দিনের উষ্ণতম সময় অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, পানির সাথে খাওয়ালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
এছাড়াও, খাবারের সাথে ভিটামিন-সি যুক্ত প্রিমিক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। গরমের সময় পোলট্রি খামারে বিশেষ যত্ন না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া এবং মোরগ-মুরগির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। খামারে বাচ্চা আনার আগে পরিষ্কার ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পানির সাথে ভিটামিন সি, আখের গুড় অথবা ইলেকট্রোলাইট মেশানো স্যালাইন দিতে হবে।
খামারের ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভেতরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা থাকে এবং ক্ষতিকর গ্যাস জমতে না পারে। খামারে সিলিং ফ্যান ও এগজস্ট ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মোরগ-মুরগি আরামদায়ক পরিবেশে থাকতে পারে। তাদের অযথা বিরক্ত করা যাবে না এবং পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে।
টিনের চালা অতিরিক্ত গরম হলে, তাতে দিনে দুই-একবার পানি ছিটিয়ে ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে। টিনের চালার নিচে চাটাই বা হার্ডবোর্ড দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। খামারের চারপাশে সপ্তাহে দুবার চুন ছিটাতে হবে। ব্রয়লার লিটার ভোর বা রাতে উল্টে দিতে হবে। খাবারের ও পানির পাত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে এবং দিনে অন্তত তিনবার পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করতে হবে।
গরমের কারণে মাইকোপ্লাজমা ও কলিব্যাসিলোসিস রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই এ সময় মুরগির স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। ফিড ও পানিতে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই ব্যবহার করতে হবে।
গরমকালে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় খামারের মেঝেতে লিটার ভিজে যেতে পারে, যা রোগের কারণ হতে পারে। তাই লিটারে পাউডার চুন ব্যবহার করতে হবে এবং ফিডের বস্তা খোলা রাখা যাবে না, কারণ এতে ছত্রাক জন্মাতে পারে, যা পোলট্রি খাদ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আরও পড়ুন:
উন্নতজাতের লেয়ার মুরগি চেনা ও লিটার পদ্ধতিতে পালন Read more...
ভারতের কয়েকটি উন্নতজাতের মুরগি Read more...
লেয়ার মুরগি পালন: ছোট ভুলে বড় ক্ষতি Read more...
‘হাজল’ পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন দুই আড়াই গুণ বেশি Read more...
মুরগির কোন টিকা কখন কীভাবে দিতে হয় Read more...
0 Comments